বাংলাদেশ
ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গঠনতন্ত্র সংশোধনী প্রস্তাবনা প্রত্যাহার না
করলে কোনো ধরনের লিগে অংশগ্রহণ করবে না ঢাকার ক্লাবগুলো। বিসিবিকে দেওয়া
তিন দিনের আল্টিমেটামের আর মাত্র এক দিন বাকি। সংশোধনীতে বোর্ডে ঢাকার
ক্লাবগুলোর কর্তৃত্ব কমিয়ে আনার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
বিসিবিবিরোধী
এই আন্দোলনকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন সংগঠন গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
ঢাকাভিত্তিক ক্লাবগুলোর সংগঠকরা। দুয়েক দিনের মধ্যে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে
আত্মপ্রকাশ করবে বলে রাইজিংবিডি ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন লিজেন্ডেস অব
রূপগঞ্জের জয়েন্ট সেক্রেটারি সাব্বির আহমেদ রুবেল।
রুবেল বলেন, “আমরা
একটা অর্গানাইজেশন গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। দুয়েকদিনের মধ্যে এটির
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। ক্রিকেটার, আম্পায়ার হতে শুরু করে সবার সংগঠন আছে,
তারা এক হয়ে কাজ করে। আমরা এতদিন এক হতে পারিনি, এবার এক হয়ে আমরা কাজ
করবো।”
‘ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজার্স অ্যাসোসিয়েশনে’ ব্যানারে
আগামী শনিবার বিসিবির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসবেন সংগঠকরা। এদিন একটি
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও
ক্রীড়া সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবু।
মুঠোফোনে তিনি বলেন, “তিন দিনের
আল্টিমেটামের এক দিন বাকি আছে। আমরা শনিবার বসবো বিসিবি প্রেসিডেন্টের
সাথে। এদিন চূড়ান্ত সমাধান হতে পারে। নাহলে রবিবার থেকে কোনো ধরনের লিগে
অংশ গ্রহণ করবে না ক্লাবগুলো।”
গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি, ২০২৫)
রাজধানীর একটি হোটেলে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম)
আওতাধীন ক্লাবগুলোর সংগঠকরা মতবিনিময় সভায় বসেন। সেখানে সংশোধনী
প্রত্যাহারসহ কমিটির আহ্বায়ক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের পদত্যাগ দাবি করা হয়।
ক্লাবগুলোর
আল্টিমেটামের পরদিন আহ্বায়ক ফাহিমের নেতৃত্বে বৈঠকে বসে সংশোধনী কমিটি।
ফাহিমের সঙ্গে কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে আছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের
প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম। বাকি তিন সদস্য হচ্ছেন আইনের তথা বিসিবির
লিগ্যাল অ্যাডভাইজর মো. কামরুজ্জামান, ব্যারিস্টার শেখ মাহদি এবং এ কে এম
আজাদ হোসেন।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবনা খসড়ায় দেখা যাচ্ছে নতুন করে
সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করলেও বোর্ডে কমানো হচ্ছে ঢাকাভিত্তিক ক্রিকেট
ক্লাবের কর্তৃত্ব আর বাড়ানো হচ্ছে ‘সরকারের প্রভাব’। বর্তমানে ক্লাব
ক্যাটাগরি থেকে ১২ জন পরিচালক আসতে পারবেন। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ক্লাব
থেকে সেটি কমিয়ে মাত্র ৪ জন পরিচালকে নিয়ে আসা হয়েছে। অর্থাৎ, ঢাকার
প্রিমিয়ার ডিভিশন, ফার্স্ট ডিভিশন ও থার্ড ডিভিশন ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে
মাত্র ৪ জন পরিচালক আসতে পারবেন বোর্ডে।
ক্লাব ক্রিকেটের সংশ্লিষ্টতা
কমলেও বাড়ছে ডিভিশন ও ডিসট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রভাব। আগে ১০ জন পরিচালক
আসতে পারতেন বিভাগ ও জেলা থেকে। সেটি তিনজন বাড়িয়ে ১৩ করার প্রস্তাব আনা
হচ্ছে। প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্রে ঢাকা বিভাগ থেকে একজন বাড়িয়ে তিনজন করা
হচ্ছে।
এ ছাড়া, দুজন করে পরিচালক হবেন চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও
রংপুর থেকে। একজন করে থাকবেন বরিশাল ও সিলেট থেকে। রংপুর ও রাজশাহীর
পরিচালক সংখ্যা একের পরিবর্তে দুজন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে
ইন্সটিটিউশন থেকে একজন বাড়িয়ে দুজন করা হচ্ছে। একই থাকছে জাতীয় ক্রীড়া
পরিষদ থেকে। আগের মত বর্তমান সংশোধনীতেও দুজন রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ২৫
জন পরিচালক থেকে কমিয়ে আনা হচ্ছে ২১-এ। তাতে দেখা যাচ্ছে বিভাগ, জেলা,
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ইন্সটিটিউশনের ১৭ জন পরিচালকই হবেন সংশ্লিষ্ট সরকারের
আস্থাভাজন কেউ। তাতে বোর্ডে বাড়বে ‘সরকারের প্রভাব’ আর কমবে
ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট ক্লাবের কর্তৃত্ব।