নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদের
দুই-তিন আগে এসে গত সপ্তাহের তুলনায় গ্রীষ্মকালীন কিছু সবজির দাম বেড়েছে।
গরু আর মুরগির মাংসের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। শুক্রবার
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা
বেড়েছে; এসব বাজারে ৮০ টাকার নিচে মিলছে না গ্রীষ্মকালীন কোনো সবজি।
গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে গোল বেগুন আকৃতিভেদে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৯০ থেকে
১২০ টাকা, করলা কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি
হচ্ছে।
বরবটি ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা,
ধুন্দুল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কচুর মুখি ১২০ টাকা, কচুর লতি ১০০ থেকে
১১০ টাকা, সজনে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা এবং কাঁচামরিচ প্রকারভেদে
১০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতা মো.
হান্নান বলেন, “গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ এখনও কম। এজন্য দামটা একটু বেশি।
ধীরে-ধীরে বাজারে ঢুকছে। দুই-তিন সপ্তাহ পর সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমতে
শুরু করবে।”
এদিকে শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষ হলেও বাজারে এখনও কিছু-কিছু
সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবে, গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম কেজিতে ১০
টাকা বেড়েছে। এসব সবজির দাম গ্রীষ্মকালীন সবজির তুলনায় কম।
বাজারে শিম
৫০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি আকৃতিভেদে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধা
কপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ আকৃতিভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাকা
টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, খিরা
৮০ টাকা এবং শসা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে বাজারে আগের দামেই
পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লেবুর দাম কিছুটা কমে হালি ৪০ থেকে ৬০
টাকা, ধনে পাতা ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে লাল শাক ১০ টাকা,
লাউ শাক ৪০ টাকা, মুলা শাক ১০ টাকা, পালং শাক ১০ টাকা, পুঁই শাক ৫০ টাকা
এবং ডাটা শাক ২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর কলমি শাক বিক্রি
হচ্ছে তিন আঁটি ২৫ টাকা দরে।
এছাড়া, কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি
বিক্রেতা মো. হাফেজ বলেন, “বাজারে শীতের সবজি কমেছে। এজন্য গত সপ্তাহের
চাইতে একটু বেশি দাম। এখন আবার গরমের (গ্রীষ্মকালীন) সবজির সরবরাহ বাড়ছে।
বাজার ঠাণ্ডা হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যে।”
ঈদের আগে হঠাৎ বেড়েছে মুরগি
এবং গরু মাংসের দাম। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা
গেছে, দুই সপ্তাহ আগে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় থাকা ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে
২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে। সোনালি মুরগি (কক) কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা
বেড়ে ৩৩০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি
দরে বিক্রি হচ্ছে।
আর, লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর
মাংস কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়, গরুর
কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর ভুঁড়ি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা
এবং খাসির মাংস আগের মতই কেজি প্রতি ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা
মামুন হোসেন বলেন, “দুইদিন আগে গরুর মাংস নিলাম ৭৮০ টাকা করে। আজ ৮০০
চাইছে। সঙ্গে চর্বিও দিয়ে দিবে সিস্টেমে। সলিড মাংস না কিন্তু। ওরা এমনই
করে। মানুষ যখনই উৎসবে একটু ভাল-মন্দ খায়, ওরা চান্সটা নেয়। আলহামদুলিল্লাহ
যে পেঁয়াজ-রসুন বা মশলাপাতির দাম বাড়ে নাই। ওইগুলাও ঈদ আসলে বাড়ে।”
স্থিতিশীল আলু ও পেঁয়াজের দাম:
বাজারে
আলু ও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বগুড়ার লাল আলু ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি
হচ্ছে। এছাড়া, আদা ১২০ থেকে ২৮০ টাকা, দেশি রসুন কেজিতে ১০ টাকা কমে ৯০
টাকা এবং ভারতীয় রসুন ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা দরে। আর,
দেশি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ১২০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা,
ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা, খেসারির ডাল ১৩০ টাকা, চিনি খোলা আর প্যাকেট দুটোই
১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।