
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মো.রুবেল মিয়া(২৭) হত্যা ঘটনায় ৪জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এজাহার নামীয় ৪ জনকেই গ্রেফতার করেছে তিতাস থানা পুলিশ।
গ্রেফতার কৃতরা হলেন, ইয়াছিন (৩২) পিতা শাজাহান তোফাজ্জল (৪৫) পিতা কামাল খান,মোহাম্মদ আলী(২৭) পিতা জয়নাল ও ডোম জয়নাল (৫৫)পিতা মৃত ছামাদ মিয়া সর্ব সাং গাজীপুর বাস্তহারা, এদেরকে আজ (৬ এপ্রিল) কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ইয়াছিন ও নিহত রুবেল কেইস পাটনার। ঘটনার দিন ইয়াছিন, রুবেল, তোফাজ্জল ও মোহাম্মদ আলী চার জন এক সাথে মোহাম্মদ আলীর ঘরে ইয়াবা সেবন করতে যায়, ইয়াছিন ৬৫০টাকা দেয় ইয়াবা আনতে, মোহাম্মদ আলী, আরিফ নামের একজন ইয়াবা বিক্রেতার কাছ থেকে তিনটি ইয়াবা আনে। সেবনের এক পর্যায়ে ইয়াছিন কোমর থেকে হাতুড়ি বের করে রুবেলের মাথায় আঘাত করলে, রুবেল খাট থেকে নিচে পড়ে যায় এবং গোংরানি শুরু করে,গোংরানি থামাতে তোফাজ্জল রুবেলের পা চেপে ধরে পড়ে মোহাম্মদ আলী তার ঘরে থাকা কুড়াল দিয়ে মাথায় একাধিক কুপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
লাশ গুম করার জন্য ইয়াছিন ও তোফাজ্জল ব্যাগ আনতে গিয়ে আর আসেনি,তারা না আসায় মোহাম্মদ আলী হতাশা গ্রস্ত হয়ে স্থানীয় রাশেদ ফরাজি নামের একজনকে ফোন করেন,রাশেদ ফরাজি ঘটনা স্থলে এসে রুবেলের রক্তাক্ত মৃত দেহ দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়লে মোহাম্মদ আলী রাশেদকে ঘটনা স্থল থেকে দুরে নিয়ে আসে,পড়ে রাশেদের জ্ঞান ফিরলে তিনি চিৎকার করে বলেন মোহাম্মদ আলী খুন করেছে, তখন আশপাশের লোকজন এসে মোহাম্মদ আলীকে আটক করে। খবর পেয়ে মোহাম্মদ আলীর পিতা ডোম জয়নাল ঘটনা স্থলে আসলে তাকেও স্থানীয়রস আটক করে পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন।
আটককৃত মোহাম্মদ আলীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে রাত আনুমানিক তিনটার সময় ইয়াছিন ও তোফাজ্জলকে গাজীপুরস্থ তাদের প্রত্যেকের ঘর থেকে আটক করে পুলিশ।
কি কারনে হত্যা করতে পারে রুবেলকেঃ ১। ইয়াছিনের তৃতীয় স্ত্রী তাকে ছেড় চলে গেছে, এতে ইয়াছিন ধারণা করছে নিহত রুবেলের কারনে চলে গেছে।
২। তোফাজ্জল, নিহত রুবেলের নিকট ১৫ টি ইয়াবার টাকা পায়। এই দুই কারন সামনে রেখে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে তিতাস থানা পুলিশ।
এবিষয়ে তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ বলেন,রুবেল হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই জিয়া বাদী হয়ে ৪ জনের উল্লেখ করে আরও ৩/৪ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা করেছেন।আমরা ইতি মধ্যে এজাহার নামীয় ৪ জনকে আটক করেছি এবং আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি। তিনি আরও বলেন হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে আমরা দুটি ইস্যু নিয়ে কাজ করছি।
উল্লেখ শুক্রবার সন্ধ্যায় রুবেলকে ডেকে নিয়ে তিতাস উপজেলার গাজীপুর বাস্তহারা মোহাম্মদ আলীর ঘরে ইয়াবা সেবন করতে বসে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে পরে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা।নিহত রুবেল বাস্তহারার মৃত আলী মিয়ার ছেলে।