
শান্তিরক্ষী
মিশনে নিহত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয়ে এবং স্বামীর অনুদানের টাকা
উত্তোলনের নামে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে
কুমিল্লায় ৭ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র্যা ব।
সোমবার দুপুরে নগরীর
শাকতলা র্যা ব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যা ব-১১ এর
ক্রাইম প্রিভেনশন-২ কোম্পানী অধিনায়ক মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।
র্যা ব
জানায়, সময়ের সাথে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ জনগণকে
বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা
হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েকটি প্রতারক চক্র। সম্প্রতি কুমিল্লার কয়েকটি পরিবার এমন
প্রতারনার শিকার হন।
প্রতারনার শিকার মোছাম্মদ হাসিনা বেগম (৭০),
মোছাম্মদ সালমা মির্জা (২১) ও মোঃ বিল্লাল হোসেন (২৫) র্যা ব কার্যালয়ে এক
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৯ অক্টোবর রোববার রাতে প্রতারনার মূল হোতা নুসরাত
জাহান জান্নাতসহ সাতজনকে কুমিল্লার কোটবাড়িসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার
করা হয়। এসময় তাদের নিকট থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, দুটি চেক বই, নগদ ৩২ হাজার
৯শত টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, লক্ষীপুর জেলার পশ্চিম
জামিরতলী এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান জান্নাত (২৭), আব্দুর রহমান (৩৫),
সাহাবুদ্দিন (৪৬), চন্দ্রগঞ্জ থানার মোহাম্মদনগর এলাকার পারভীন আক্তার
(৪৫), কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানার কোটবাড়ী এলাকার মোঃ ইলিয়াস হোসেন,
শালমানপুর এলাকার ফাতেমা আক্তার (৩৫), বরুড়া উপজেলার এগারগ্রাম এলাকার মোঃ
বশির উদ্দিন।
ভূক্তভোগী হাসিনা বেগম জানান, তিনি দৌলতপুর, টিএন্ডটি মোড়,
হাকিম মঞ্জিলের মালিক। জুলাই মাসে প্রতারক নুসরাত জাহান জান্নাত (২৭),
নিজেকে শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয়ে আমার বাসার
ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। সে এ বাসায় ২/৩ মাস থাকবে। কারণ ধর্মপুর এলাকায় নিজের
জমিতে বাড়ী তৈরীর কাজ শুরু করবে বলে জানায়। পরবর্তীতে জান্নাত আমার সাথে
বিভিন্ন প্রকার কথা বার্তার মাধ্যমে আমার মন জয় করে এমন প্রতারনা করেন।
আরেক
ভূক্তভোগী সালমা মির্জা জানায়, প্রতিবেশি হিসেবে জান্নাত সাথে সূ-সম্পর্ক
গড়ে তোলে। পরে স্বামীর সরকারী অনুদানের টাকা সোনালী ব্যাংক লিঃ কোর্ট
বিল্ডিং, কুমিল্লা শাখায় জমা হয়েছে এবং উক্ত টাকার পরিমাণ ১ কোটি টাকা;
যাহা উত্তোলন করিতে উক্ত ব্যাংকে ১০% হারে ভ্যাট হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা জমা
দিতে হবে। জান্নাত তাদেরকে জানায় তার নিকট ২লক্ষ টাকা রয়েছে এবং তাকে ৮
লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে দিতে পারে তাহলে সে তার অনাত ছেলেটিকে নিয়ে বাঁচতে
পারবে এবং একইসাথে টাকা উত্তোলনের ৩০ মিনিটের মধ্যে তাদের টাকার সাথে ১লক্ষ
করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত প্রদান করবে।
র্যা ব জানায়, এ প্রতারক চক্র
বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ভাড়ায় উঠে বাড়ির মালিকসহ প্রতিবেশিদের সাথে সখ্যতা
তৈরী করে। পরে শান্তিরক্ষা মিশনে স্বামী নিহত হয়েছে, স্বামীর সরকারী
অনুদানের উত্তোলনের নামে এ চক্রটি কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে কুমিল্লার থেকে বেশ
কয়েকটি পরিবার থেকে কোটি টাকা হাইতয়ে নেয়। র্যা ব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত
প্রতারকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।