Published : Tuesday, 10 August, 2021 at 12:00 AM, Update: 10.08.2021 1:51:27 AM

মাসুদ আলম।।
কুমিল্লার
তিতাসে এক পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করে পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদাবাজির
অভিযোগে মো. সাগর মিয়া (৩৬) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায়
ভাইরাল হয়ে পড়লে কুমিল্লা জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে রাতভর অভিযান
চালিয়ে সোমবার ভোর ৫টায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন মাতুয়াইল এলাকার একটি বহুতল
ভবনের কাঠের ওয়ারড্রোব ভেতর লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ ও গোয়েন্দারা
সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর চাঁদাবাজি কাজে ব্যবহৃত একটি
বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সোমবার
বিকেলে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ সুপার
ফারুক আহমেদ এসব তথ্য জানান।
এর আগে রবিবার (০৮ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে
তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের শান্তির বাজারে সামছুল
হুদা নামে পল্লী চিকিৎসক শাসছুল হুদার অভিযোগ সাগর নামে এক সন্ত্রাসী
পিস্তল ঠেকিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ৩৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অস্ত্রের মূখে
জিম্মি করে আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসী সাগর মিয়া।
চাঁদাবাজির এই সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে বিষয়টি আলোচনায়
আসে। পরে নিজের জীবন রক্ষা ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে একটি ভিডিও বার্তা
প্রকাশ করেন ওই পল্লী চিকিৎসক।
অভিযুক্ত সন্ত্রাসী সাগর তিতাস উপজেলার
শাহপুর গ্রামের মৃত হাবুল মিয়ার ছেলে। এছাড়া মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের
সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের চাচাতো ভাই। সাগরের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার
আইন, চাঁদাবাজি, চুরি ও ছিনতাইসহ ১৯টি মামলা রয়েছে। নতুন করে পল্লী
চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করে পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র
উদ্ধারের ঘটনাসহ মোট আরও দুইটি মামলা প্রকৃয়াধীন রয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে
কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহম্মেদ নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সাগর
চুরি, চিনতাই, চাঁদাবাজির অভিযোগ তিতাস থেকে বিতাড়িত। সে পাশ্ববর্তী
মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ এবং ঢাকা বিভাগে অবস্থান করতেন। গোপনে উপজেলায় এসে
অবরাধ কর্মকা- করে আবারও পালিয়ে যেতেন।
পল্লী চিকিৎসক শামসুল হুদা
ভিডিও বার্তা এবং মোবাইল ফোনে জানান, পিস্তল ঠেকিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনার আগের
দিন শনিবার (০৭ আগস্ট) রাতে আমার বাসায় একদল ডাকাত হামলা করে। কিন্তু
প্রতিবেশীরা টের পেলে তারা পালিয়ে যায়। রবিবার

বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান
ফারুক মিয়া সরকারসহ গণ্যমান্য বক্তিদের জানানো হয়। বিকেল ৪টায় সাগর ক্ষিপ্ত
হয়ে আমার চেম্বারে ঢুকে প্রথমে আমাকে হুমকি দেয়। পরে পিস্তল বের করে আমাকে
হত্যার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ভয়ে আমি নগদ ও বিকাশে ৩৯
হাজার টাকা দেই। সে টাকা নিয়ে আরও দুই লাখ টাকার জন্য চাপ দিয়ে যায়। না
দিলে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। সে আগেও আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছে।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলাম। সকলের সহযোগিতায় এখন নিরাপদে আছি। আসামী
গ্রেফতারে তিনি জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসময়
ছিলেন, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ তানভীর আহমেদ,
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসব) মোঃ আফজাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ
সুপার (সদর দপ্তর) নাজমুল হাসান রাফী, ডিআইও ওয়ান মাঈনউদ্দিন খান, পুলিশ
পরিদর্শক মোঃ মাইন উদ্দিন অফিসার ইনচার্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা, সত্যজিৎ
বড়ুয়া, জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই পরিমল দাস প্রমুখ।