২৭ হাজার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করেছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়
Published : Monday, 17 October, 2022 at 12:00 AM
সংসদীয় কমিটির সুপারিশে বর্তমান সরকারের সময়ে নির্মিত দেশের সব ব্রিজ/কালভার্টের ডাটাবেজ তৈরি করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ সময়ে সারা দেশে ২৭ হাজার ৯৫ ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ ডাটাবেজ তৈরি করার সুপারিশ করেন কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম। কমিটির কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে।
কমিটির আগের বৈঠকে সভাপতি তাজুল ইসলাম সারা বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কতগুলো কালভার্ট করা হয়েছে এবং কতগুলো করা হতে পারে তার ডাটাবেজ করার পরামর্শ দেন। এই প্রকল্পগুলো যথার্থতা ও যৌক্তিকতা বিচার করে গ্রহণ করা উচিত বলেও জানান তাজুল ইসলাম। কারণ সিলেটে বন্যার সময় প্রয়োজনের তাগিদে রাস্তা কাটা হয়েছে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ দ্রুত করার পরামর্শ দেন তিনি।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রবিবারের বৈঠকে সারাদেশের ব্রিজ/কালভার্টের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয় ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে গত ১৪ বছরে সারাদেশে ২৭ হাজার ৯৫টি ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় আরও ছয় হাজারের বেশি ব্রিজ/কালভার্ট তৈরি করার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের রয়েছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে তথ্য ভাণ্ডার (ডাটাবেজ) তৈরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনায় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৯৯ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সরঞ্জাম কেনার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয় ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২৫৫টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। একই ২০১৮-২৩ মেয়াদে আরও ৪২৩টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫ টি জেলায় ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৩৬টি বজ্র নিরোধক দণ্ড ও বজ্র নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারে টেকনাফ উপজেলার কেরতলী ও বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, দুটি প্রত্যাবাসন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের কাছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২২৮ টি পরিবারের ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জনের তালিকা ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্তির জন্য পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ৬০ হাজার ৮৬৪ জনের তথ্য যাচাইপূর্বক ৩৪ হাজার ২৪৭ জনের বিষয়ে স্পষ্ট করেছে।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত বাজেটের কাজ আগামী বর্ষা আসার পূর্বেই দৃশ্যমান করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি। বজ্রপাত মোকাবিলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কাজে লাগানো ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করার সুপারিশ করা হয়।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আগমনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও পরিবেশগত যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা নিরসন এবং অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।