ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
‘ভুল চিকিৎসা হয়নি’ কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের বক্তব্য
Published : Sunday, 21 February, 2021 at 12:00 AM, Update: 21.02.2021 2:16:52 AM
‘ভুল চিকিৎসা হয়নি’ কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের বক্তব্যগত ১৭-০২-২১ বুধবার দৈনিক কুমিল্লার কাগজ পত্রিকায় ‘ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ট্রমা সেন্টার ভাংচুর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ভুল তথ্যে উপস্থাপিত হয় যা আপনার পাঠকদের নিকট কুমিল্লা ট্রমা সেন্টার সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছে। সেদিনের ঘটনায় কোন ভুল চিকিৎসা হয়নি, রোগীকে ডাঃ আব্দুল হক আজ্ঞান করেননি এবং রোগীর কোন আপারেশনও হয়নি। কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের সার্ভিস ম্যানেজার এইচএম তাইজুর রব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: গত ১৬/০২/২০২১ ইং দুপুর ১:০০টায় সময় লাকসাম থানাধীন কোয়ার গ্রামের মোবারক হোসেন(৬০) পিতা মৃত ওসমান গণি নামক একজন রোগী হাটুর ইনফেকশান (সেফটিক নি) চিকিৎসার জন্য ট্রমা সেন্টারে ভর্তি হন। রোগীর হাটুতে মারাতœক প্রদাহ ছিল। অপারেশন না করলে সেফটিসোমিয়া হয়ে মারা যাওয়ার মত অবস্থা হতে পারে তাই অপারেশন খুব জরুরী ছিল।  কিন্তু রোগীর হাটুর প্রদাহ ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা ছিল। রোগীকে ও তার অভিভাবককে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে এবং তা মেনেই তারা অপারেশন করাতে রাজী হয়েছে। সে অনুযায়ী একজন সিনিয়র (সহযোগী অধ্যাপক) এনেসথেসিওলজিস্ট এর মাধ্যমে শুধু স্পাইনাল এনেসথেশিয়া দিয়ে শুধু কোমরের নিচের অংশ অবশ করা হয়। এর কিছুক্ষন পরই রোগীর কার্ডিয়াক এরেস্ট হয় এবং তাৎক্ষনিক সকল চিকিৎসকবৃন্দ তার চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েও বাচানো যায়নি এবং রোগীর অপারেশন শুরু করার আগেই রোগী মারা যায়।
এই সুযোগে একদল সন্ত্রাসী হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মাহফুজুর রহমান বাদল, মেডিকেল অফিসার ডা. সাইদসহ কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উপর হামলা ও মারধোর করে এবং হাসপাতাল ভাংচুর করে। তখন স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ রোগীর অভিভাবকদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে, রোগীর স্বজনরা বিষয়টি বুঝতে পারে এবং হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে যায়। এর আধঘন্টা পর আবার একদল একদল সন্ত্রাসী হাসপাতালে কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উপর হামলা ও মারধোর করে এবং হাসপাতাল ভাংচুর, লুটপাট করে। আতঙ্কগ্রস্থ করে তোলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগীদের। তারা ফেসবুক সহ শোস্যাল মিডিয়ায় হাসপাতাল ভাংচুরের খবর ছড়িয়ে জনগনকে বিক্ষুব্ধ করে তোলার চেস্টা করে, সাধারণ মানুষ মূল খবর না জেনে হাসপাতালের বিষয়ে নেতিবাচক ধারনা পায়।
কুমিল্লা ট্রমা সেন্টার বৃহত্তর কুমিল্লার অন্যতম বৃহৎ অর্থোপেডিক ও জেনারেল হাসপাতাল। কুমিল্লা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দূর্ঘটনা কবলিত মানুষ এই হাসপাতালে ছুটে আসে। আমরা এসব মানুষের প্রাণ বাচিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করি। প্রতি বছর জরুরী বিভাগে আমরা ৫হাজার দূর্ঘটনা কবলিত মূমুর্ষ ও অসুস্থ মানুষের জরুরী সেবা দেই, আউটডোরে লক্ষাধিক মানুষ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসকের সেবা নেয় এবং চার হাজারের এর বেশী রোগীর অপারেশন হয়। মানুষের প্রাণ বাচানোর জন্য ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ প্রায় তিনশত লোক নিরলস কাজ করছে। আগত সব রোগীদের সুস্থ করে তোলাই একটি হাসপাতালের প্রধান উদ্দেশ্য এবং এটি করতে পারাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
আজ কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে আক্রমন হয়েছে কাল হয়তো অন্য কোন হাসপাতালে হবে এভাবে যদি সব প্রতিষ্ঠানে আক্রমন হতে থাকে, আর হাসপাতালগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে লাখ লাখ অসুস্থ্য মানুষ কোথায় সেবা নিবে? হাসপাতালের সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে কোথায় যাবে? তাই এসব সন্ত্রাসী কাজের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ও হামলা, ভাংচুর চলতে থাকবে, আর হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া দুরহ হয়ে যাবে। এক্ষত্্ের গণমাধ্যমকেও সংবাদ প্রকাশে আরো সচেতন হওয়া জরুরী।