
করোনাভাইরাসে
আক্রান্ত হয়ে দেশে গত এক দিনে আরও ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত
হয়েছে আরও ২ হাজার ৬৯৭ জন। শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত
এক দিনে মারা যাওয়া ৮৩ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট ১০ হাজার ৯৫২ জনের
মৃত্যু হল। আর নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা
বেড়ে ৭ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ জন হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৫ হাজার ৪৭৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক
দিনে। তাতে এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৫১ জন
হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গতবছর ৮
মার্চ; তা সাত লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৪ এপ্রিল। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের
মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।
প্রথম
রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য
নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ১৫ এপ্রিল তা দশ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
সংক্রমণের
দ্বিতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে রোগীর যখন প্রচ- চাপ, সে সময় ১৪ এপ্রিল
প্রথমবারের মত দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ ছাড়ায়। এর দুই দিনের মাথায় তা একশ
ছাড়িয়ে যায়।
১৬ থেকে ১৯ এপ্রিল চার দিন দেশে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল একশর বেশি। ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বিশ্বে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১৪ কোটি ৪৯ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩০ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষের।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ৩৩তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৭তম অবস্থানে।
স্বাস্থ্য
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৩৫০টি ল্যাবে ২০ হাজার ৫৭১টি
নমুনা পরীা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীা হয়েছে ৫৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৭৯টি নমুনা।
২৪
ঘণ্টায় নমুনা পরীার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ, এ পর্যন্ত
মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৭
দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীা করা হয়েছে ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৬টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ টি।
গত
এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৫৮ জন পুরুষ আর নারী ২৫ জন। তাদের
৫৩ জন সরকারি হাসপাতালে ২৮ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং দুইজন বাড়িতে মারা
গেছেন।
তাদের মধ্যে ৫৬ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৭ জনের বয়স ৫১ থেকে
৬০ বছর, ৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, ৫ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে
ছিল।
মৃতদের মধ্যে ৫২ জন ঢাকা বিভাগের, ১৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন
রাজশাহী বিভাগের, ৫ জন খুলনা বিভাগের, ৪ জন বরিশাল বিভাগের, ৩ জন সিলেট
বিভাগের এবং ৩ জন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১০ হাজার ৯৫২ জনের মধ্যে আট হাজার ৬৮ জনই পুরুষ এবং দুই হাজার ৮৮৪ জন নারী।