ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
জাপানি হলুদ তরমুজ চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়
Published : Sunday, 25 April, 2021 at 12:00 AM, Update: 25.04.2021 12:56:19 AM
জাপানি হলুদ তরমুজ চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়তানভীর দিপু: কুমিল্লায় প্রথম বারের মতো চাষ হলো হলুদ তরমুজ ‘গোল্ডেন ক্রাউন’। সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামে তরমুজ চাষী আনোয়ার হোসেন শুরু করেছেন হলুদ তরমুজ চাষ, এর আগে বারোমাসি কালো তরমুজ চাষ করে আলোচনায় আসেন আনোয়ার। খোসা একেবারে হলুদ রঙের, আর পাকলে ভেতরে শাঁস হয় টকটকে লাল; এই তরমুজ সাধারণত চাষ হয় জাপান-তাইওয়ানসহ পূর্ব এশিয়ান অঞ্চলে। তবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গায়ও করা হয় সাধারণ তরমুজের চেয়ে বেশি মিষ্টি এই হলুদ তরমুজ। মাঁচায় চাষ করা হলুদ তরমুজের বাম্পার ফলন নিয়ে আশাবাদী চাষী আনোয়ার এবং কৃষি বিভাগ। কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, অত্যন্ত যতœসহ এই হলুদ তরমুজ চাষ করতে হয়। ভালো যতœ নেয়া গেলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা আছে। এই জাতটি যেহেতু কুমিল্লায় নতুন আমরা এই ফলনটিকে পর্যবেক্ষণে রাখছি।  
আনোয়ার হোসেন কুমিল্লার কাগজকে জানান, গত বছর কালো তরমুজ চাষ করে সফল হবার পরই চিন্তা করেছি এবার হলুদ তরমুজ চাষের। কালো বারোমাসি তরমুজের সাথে মিলিয়ে মোট ৬৫ শতক জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। চারা রোপনের ৬৫-৭০ দিনের মধ্যে হলুদ তরমুজের ফলন আসবে। আর ১০ দিনের মধ্যেই বিক্রির জন্য উপযোগী হবে তরমুজগুলো। প্রতিটি হলুদ তরমুজ সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ কেজি হবে।
আনোয়ার আরো জানান, হলুদ তরমুজের জন্য ২০ শতকে বিনিয়োগ করা হয়েছে ১ লাখ টাকার মত। দ্বিগুনেরও বেশি লাভের সম্ভাবনা দেখছি। খবর পেয়ে এখনি মানুষ জমিতে আসছে তরমুজ কেনার জন্য। ৬৫ শতক জমিতে কালো আর হলুদ মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার পিস তরমুজ নেটিং(নেটের ব্যাগে ঝুলিয়ে বাঁধা) করেছি। এর মধ্যে ১২শ এর উপর হলুদ তরমুজ বিক্রির জন্য পাওয়া যাবে। কালো তরমুজের চেয়ে বেশি দামেই হলুদ তরমুজ বিক্রি হবে।
খবর পেয়ে একই এলাকার কৃষক কামাল,শাহিন ও শাহনেওয়াজ হলুদ তরমুজ খেত দেখতে আসেন। ফলন দেখে তারা জানান, গতবারও আনোয়ার দরমুজ চাষ করে ভালো আয় করেছে। এবারও নতুন জাতের হলুদ তরমুজ চাষ করেছে। আমাদের এলাকার তরুণ চাষীরা অনেকেই এখন এধরনের নতুন জাতের ফসল ফালাতে আগ্রহী হচ্ছে। আশা করি হলুদ তরমুজেরও সফল চাষ সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান আরো জানান, এই তরমুজ মাঁচায় চাষ হয়। আর হলুদ তরমুজ সাধারণত সাধারণ তরমুজের মৌসুম শেষ হবার পর বিক্রির জন্য উপযোগী হবে। যে কারণে চাষী এই ফসলের ভালো দাম পাবে। ইয়োলো ট্র্যাপ- ব্যবহার করে কীট পতঙ্গ দমন করা হলে কুমিল্লাবাসী রাসায়নিকমুক্ত ফল পাবে বলে আশা করছি। তবে এই তরমুজ চাষে খুবই যতœ নিতে হয়।