ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
মশা নিধনে অভিযান বাড়ান দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী
Published : Tuesday, 14 June, 2022 at 12:00 AM
মশা নিধনে অভিযান বাড়ান দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীবর্ষাকাল এখনো শুরু হয়নি। বৃষ্টিপাতও প্রবল নয়। অথচ এরই মধ্যে দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে ৩৫০ শতাংশের বেশি।
গত বছর প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) ১০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। বিপরীতে চলতি বছর শুধু মে মাসেই ১৬৩ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর ১ জানুয়ারি থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৪৭। জুনের প্রথম ১১ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৯৫ জন। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বাড়তে পারে। অথচ এখনো মশা নিধন, বিশেষ করে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নিধনে বড় ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
সাধারণত বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। কারণ এ সময় এডিস মশার ঘনত্ব বাড়ে। এই মশা সচরাচর পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। বর্ষায় যেখানে-সেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে এবং খুব সামান্য পানিতেই এই মশা বংশবিস্তার করতে পারে। নাগরিক সচেতনতার অভাব থাকায় মানুষ যত্রতত্র পলিথিনের ব্যাগ, ডাবের খোসা, বোতল, ক্যান, পরিত্যক্ত টায়ার বা বিভিন্ন ধরনের পাত্র ফেলে রাখে। সেগুলোতে জমা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশা অনায়াসে বংশবিস্তার করতে পারে। এ ছাড়া অনেক বাড়ির ছাদে, বারান্দায় ফুলের টব রাখা হয় এবং সেগুলোতে পানি জমে থাকে। অনেকের ঘরেও ছোটখাটো পাত্রে পানি জমিয়ে রাখা হয়। নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে তো রীতিমতো মশার চাষ করা হয়। আর দুই বাড়ির মধ্যখানে সরু জায়গায় রীতিমতো আবর্জনার স্তূপ জমে থাকে। অনেক বাড়ির সানসেটেও আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়। এসব জায়গায় এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুততর হয়। ফলে বর্ষায় দ্রুত এডিস মশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানিবাহিত এবং পানিতে জন্ম নেওয়া কীট-পতঙ্গবাহী রোগব্যাধি দ্রুত বেড়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণে আমাদের উদ্যোগগুলো আরো জোরদার করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রথমেই এডিস মশা নিধনে অভিযান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি মানুষকেও নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা যাবে না। বাড়িঘরে কোথাও কোনো পাত্রে এক দিনের বেশি পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। নির্মাণাধীন বাড়িঘরে পানি জমে থাকলে তাতে নিয়মিত মশা মারার ওষুধ ছিটাতে হবে। মশারি ব্যবহার, ইনসেক্ট রিপেলেন্ট স্প্রে বা অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করে মশার কামড় থেকে বাঁচতে হবে। সিটি করপোরেশনগুলোকে নাগরিকদের সহযোগিতা নিয়ে মশা নিধনে আরো তৎপর হতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালকে বিষয়টি নিয়মিত মনিটর করতে হবে। দেশে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল পরিষেবা আরো উন্নত করতে হবে।