
ধরন পরিবর্তন করে ভয়াবহ
রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। এ পর্যন্ত গত ১০ মাসে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৮৩ জন। একই
সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ২৩ হাজারের বেশি মানুষ। সামনের দিনগুলোতে
ডেঙ্গু আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায়
ডেঙ্গু রোগ নির্মূলে স্থায়ী সমাধানের উপর জোর দিয়েছেন তারা। বিশেষ করে
ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশা নিধনে সর্বোচ্চ জোর দিতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্টরা
বলছেন, ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাসের চারটি ধরন দেখা যায়। বর্তমানে চার নম্বর
ধরনটি দেখা যাচ্ছে। এক থেকে শুরু হয়েছে। ধরন পরিবর্তন করে এখন চার নম্বর
ধরন দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি নতুন ধরন আগেরটির চেয়ে ভয়ংকর।
এ কারণেই ডেঙ্গু
রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
হয়ে যারা সুস্থ হয়েছেন তারাও দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই দ্বিতীয়,
তৃতীয় বা চতুর্থ দফায় আক্রান্ত হলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
আইইডিসিআর’র
পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন বলছেন, ২০১৭ সালে দেশে ডেন-ওয়ান ও
ডেন-টু সেরোটাইপ ডেঙ্গুর উপস্থিতি ছিল। এরপর ২০২১ সালে ডেন-থ্রি ছিল। এবার
ঢাকায় ডেন-ফোরের উপস্থিত পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার বাইরে
কক্সবাজারে ডেন-ওয়ান, ডেন-থ্রি ও ডেন-ফোর সেরোটাইপ ডেঙ্গু হচ্ছে। একাধিক
সেরোটাইপে সংক্রমণ ঘটায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেশি হচ্ছে।
জানা
যায়, বিশ্বের অনেক শহরেই এটি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। পার্শ্ববর্তী
কলকাতাতেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ব্যাংকক-সিঙ্গাপুরও
এক্ষেত্রে সফল হয়েছে। শুধু ঢাকাতেই এটি ‘অভ্যন্তরীণ মহামারি’ হিসেবে টিকে
আছে।
এক্ষেত্রে মশক নিধনে ফাঁকফোকরকে দায়ী করছেন অনেকেই। যদিও ঢাকা
উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) মেয়ররা নগরবাসীর
অসচেনতাকে দায়ী করেন বিভিন্ন সময়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত
মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ
সম্মেলনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে কোথাও
একটা ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে। যে কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
এক্ষেত্রে
মশার ওষুধ নিয়েও নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। এর আগে মশার
ওষুধ অকার্যকর জেনেও পরিবর্তনে গুরুত্ব না দেওয়ারও নজির আছে ঢাকার দুই সিটি
করপোরেশনের বিরুদ্ধেই।
সেসময় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অভিযোগ করেছিল, মশার ওষুধ কেনায় দুই সিটি করপোরেশনেই পদে পদে দুর্নীতি হয়।
জানতে
চাইলে কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবীরুল বাশার ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, মশা
নিধনে যে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, সেটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হলে তা মশার
জন্য সহনশীল হয়ে পড়ে। তাই কীটনাশক কেনার আগে ৯০ শতাংশ মশা মরবে কি না সেটি
নিশ্চিত হয়ে কেনা উচিত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম বলছে, চলতি
বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে
ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২০
হাজার ৭৯৪ জন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৩ জন। একদিনে
সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ১৩ অক্টোবর। ওইদিন ৮ জনের মৃত্যু হয়।
সবেচেয়ে ভয়াবহ ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ শিশু এবং মৃতদের ৩৫ শতাংশ।