ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন কুমিল্লার ইতিহাস ও ঐতিহ্য যোগাযোগ কুমিল্লার কাগজ পরিবার
Count
393
‘আইসিইউ খালি পাওয়া সোনার হরিণের মতো’
Published : Tuesday, 20 April, 2021 at 12:00 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক: শাহনাজ অচেতন অবস্থায় ট্রলিতে শোয়া। জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছেন, বুক ওঠানামা করছে তাঁর। সঙ্গে থাকা স্বজন জানালেন, তাঁরা টঙ্গী থেকে এসেছেন। শাহনাজ অচেতন হয়ে পড়েছিলেন, তাই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শাহনাজকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।
করোনা সংক্রমণের প্রকোপ আবার বাড়তে থাকায় হাসপাতালে প্রতিনিয়ত আক্রান্ত রোগী আসছেন। সোমবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শাহনাজের মতো ভর্তির অপোয় দেখা গেল জালাল উদ্দিনকে। করোনা ইউনিটের বারান্দায় বেঞ্চে বসে ছিলেন। অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেনের মাত্রাও মাপা হলো। তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম জানালেন, জালাল উদ্দিনের বয়স ৭০–এর ওপর। তাঁদের বাড়ি রাজধানীর আটিবাজারে। বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর, কাশিতে ভুগছিলেন। করোনা পরীা করতে দিয়েছেন। তবে শ্বাসকষ্ট থাকায় ভর্তি হবেন।
করোনা ইউনিটের বারান্দায় কথা হয় মো. মোস্তাফিজের সঙ্গে। তাঁর এক চাচা চার দিন ধরে আইসিইউতে ভর্তি। তিনি বলেন, ‘অন্তত পাঁচটা হাসপাতালে ফোন দিয়ে এখানে আইসিইউ পাইছি। একটা আইসিইউ খালি পাওয়া সোনার হরিণের মতো। যার রোগী আইসিইউতি যায়, সে–ই বোঝে করোনা কী রকম ভয়ংকর।’
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের আইসোলেশন ওয়ার্ড–লাগোয়া বারান্দায় একটি শয্যায় শুয়ে আছেন শহীদুল ইসলাম (৬৩)। বেশ অসুস্থ তিনি। রামপুরা থেকে এসে ১১ এপ্রিল ভর্তি হয়েছেন। তাঁর জামাতা রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, শহীদুল ইসলামের করোনা নেগেটিভ এসেছে। তবে ফুসফুসে ৬০ ভাগ আক্রান্ত। সব সময় অক্সিজেন দিয়ে রাখতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের ভেতর খালি থাকলেও তাঁকে সেখানে না নেওয়ার কারণ হিসেবে রুহুল আমিন বলেন, ‘অনেক আক্রান্ত রোগী। আর উনার তো পজিটিভ রিপোর্ট আসেনি। তাই সেখানে ভয়ে নিচ্ছি না।’
করোনা পরীা করাতেও লাইন দেখা গেল সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ব্যাংক কর্মকর্তা ইলোরা দাসের শরীর খারাপ লাগছিল। সন্দেহ থেকেই তিনি করোনা পরীার জন্য এসেছেন।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের হটলাইনে ফোন দিয়ে করোনা পরীার জন্য অ্যাপয়েনমেন্ট নিয়ে আসতে হবে। এরপর নির্ধারিত তারিখে হাসপাতালে এসে একটি ফরম পূরণ করে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে করোনা পরীা করতে হচ্ছে। আসিফ ইকবাল নামের একজন নমুনা দিয়ে ফিরছিলেন। তিনি বলেন, ঘণ্টা দেড়েকের মতো লাগল পরীা করাতে। এ মেডিকেলে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০–এর মতো নমুনা নেওয়া হয়।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘১০টি আইসিইউয়ের একটিও খালি নেই। প্রতিদিনই আইসিইউয়ের জন্য ফোন পাই। তবে করোনা ইউনিটের সাধারণ বেডের রোগী ভর্তির পরিমাণ সামান্য কম। গত তিন–চার দিনে এ পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।’
মো. খলিলুর রহমান বলেন, গত দুই সপ্তাহে সাধারণ শয্যা খালি কি না, সে জন্যও অনেক ফোন আসত। করোনা রোগীর জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪০টি শয্যা আছে। এর মধ্যে এখন প্রায় ১৭০ জন ভর্তি আছে। এই পরিচালক জানান, হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন গড়ে দু–তিনজন মারা যাচ্ছেন। এ ছাড়া ১২ থেকে ১৪ জন ভর্তি হচ্ছেন। সুস্থ হয়ে ফিরছেন ১০ থেকে ১৫ জন। তিনি আরও বলেন, নারীদের জন্য তাঁরা আরও ৪৮টি শয্যা তৈরি করছেন।








© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০১৮
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩
ই মেইল: [email protected],  Developed by i2soft
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আবুল কাশেম হৃদয়
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন
কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ। বাংলাদেশ। ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩
ইমেইল : [email protected] Developed by i2soft
document.write(unescape("%3Cscript src=%27http://s10.histats.com/js15.js%27 type=%27text/javascript%27%3E%3C/script%3E")); try {Histats.start(1,3445398,4,306,118,60,"00010101"); Histats.track_hits();} catch(err){};