
আমরা যারা ৮০র দশকে জেলা শহর কুমিল্লায় সাংবাদিকতার সাথে কর্মরত ছিলাম আমাদের অত্যানত কাছের লোক ছিলেন এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু ।দল মত নির্বিশেষে সকল মহলে ছিল তার গ্রহনযোগ্যতা তিনি দল মতের উর্ধে থেকে হাসি মুখে সব কিছুকে আপন করে নিতে পারতেন তাই তিনি সব সময় সাংবাদিকদের একজন আপনজন ছিলেন।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির শুরু তার জন্মভূমি বুড়িচং
বি পাড়া থেকে পেশায় ছিলেন আইনজীবি এর শুরুটাও ছিল জেলা শহর কুমিল্লার আদালত পাড়া থেকে
এরপর আর পেছনে ফেরে তাকাতে হয়নি তার সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়া ।জজ কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট অজপাড়া গা
থেকে রাজধানীর রাজনীতি অবশেষে জাতীয় পর্যায়ের সফল কর্মকান্ড কোন কিছুতেই ফিরে তাকাতে হয়নি সদ্যপ্রয়াত এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুকে।
ছিলেন সফল আইনমন্ত্রী যিনি বংগবনধুর হত্যার বিচারের পথ উম্মুক্ত করে তা বাস্তবে রুপান্তরিত করেছেন।আওয়ামী লীগের মত বড় একটি রাজনীতিক দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।সর্বশেষ পেশার সর্বোচ্চ সংগঠন সুপ্রিমকার্ট আইনজীবি সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।তরুন বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পর পর ৫বার জাতীয় সংসদে যাওয়ার সৌভাগ্য তার হয়েছিল।
বহু গুনের অধিকারী মতিন খসরু একজন শিক্ষানুরাগী ছিলেন তিনি বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রতিষটিত করে গেছেন যা তাকে অমর করে রাখবেন।
রাজনীতিতে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য যেনতেন কাজ পারিবারিকভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা এ সব কিছু থেকেই তিনি ছিলেন অনেক দুরত্বে।তার ব্যক্তিত তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পৌছে দিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করেছে।
তার হাসিমাখা মুখ শত সমস্যাতেই একই রকম আমাদের চোখে পড়েছে।অতিসহজেই তিনি মানুষকে আপন করে নিতে পারতেন।এ জন্যই আওয়ামী লীগের রাজনীতির বাইরেও তার ছিল ভোট ব্যাংক যা তাকে ৫ বার সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।ধর্মভিরু খসরু ভাইকে কাছ থেকে দেখেছি এপেকস ক্লাব করার সুবাধে শত ব্যস্ততার মাঝেও ধর্ম কর্ম করতে ভুলতেন না।আমার এলাকা
শহরের মোগলটুলিতে সোনালী ব্যাংকের কর্ম কর্তা মরহুম আব্দুল আউয়াল এর সহ ধর্মনি ছিলেন তার আপন ফুফু
তাদের এক সন্তান আমার বন্ধু বর্তমানে ডেপুটি এটরনি জেনারেল এডভোকেট আব্দুল আজিজ মাসুদের ফুফাত ভাই মতিন খসরুর শিক্ষা জীবনের একটি অংশ কাটে এ
এলাকায়।তার ছোট ভাই কুমিল্লা বার এর সাবেক সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মমিন ফেরদৌস বড় ভাই
এর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোথাও কোন সুযোগ সুবিধা
নিয়েছেন বলে তার শত্রু পক্ষ কোন কালে বলতে পারবেন
বলে মনে হয়না।ক্ষমতার দাপট কাকে বলে মতিন খসরুর পরিবারের কেউ ভোগ করেছেন বলে আমার জানা নেই।
এমনকি কুমিল্লা বিচার বিভাগের বিচারকরাও মতিন খসরুর ভাই হিসাবে তাকে জানতেন না।সম্প্রতি জেলা জর্জ কোর্টের একটি আলোচনার সভার বিচার বিভাগের
সাথে সংশিষ্ট একজনের মন্তব্য থেকে তা উঠে এসেছিল।
এ কথা গুলো বলার কারন বর্তমান রাজনীতি রাজনৈতিক
নেতা আর পরিবার সংশিষ্ট কর্মকান্ড থেকে এডভোকেট মতিন খসরু কতটা দুরে ছিলেন তা অনুমান করার জন্য।
১৯৯৪-১৯৯৫ সালের জন্য কুমিল্লা প্রেস ক্লাব ১ম বারের মত গোপন ব্যালটে নির্বাচন করে আমি নজরুল ইসলাম বাবুল সাধারন সম্পাদক দৈনিক রুপসীবাংলা সম্পাদক মরহুম অধ্যাপক আব্দুল ওহাব সভাপতি নিরবাচিত হই।
নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্টানে ত্যকালীন সরকার
দলীয় সংসদ সদস্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রি মরহুম আকবর হোসেনকে প্রধান অতিথি ও আওয়ামীলীগ দলীয় সংসদ
সদস্য এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুকে বিশেষ অতিথি
করে একটি জমকালো অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছিল
দু মেরুর দু দলের দুজন উপস্থিত থেকে আমাদের অনুষ্টানকে সে দিন প্রানবন্ত করেছিলেন।যা থেকে তাদের দুজনের রাজনীতির উদারতা সহনশীলতার চিএ ফুটে উঠে।
নম্র ভদ্র অমায়িক ব্যবহারের গুণাবলী রাজনৈতিক এ ব্যক্তিত এডভোকেট মতিন খসরু তার আইন পেশাতেও
ছিলেন পরিচ্ছন্ন ইমেজের।প্রানঘাতি মহামারি করোনা একের পর এক কেড়ে নিচ্ছেন আমাদের অনেক আপনজনকে।খসরু ভাই আর কখনো ফিরে আসবে না তার সে হাসি মাখা মুখ নিয়ে ।পর পারের নাগরিক খসরু ভাইকে যেন অনন্তকাল সেখানে ভাল রাখেন সে দোয়া মহান রাব্বুল আল আমিনের কাছে।তার কর্ম তাকে বাচিয়ে রাখবে
তিনি মরেও তা প্রমান করে গেছেন রাষ্ট্রের সকল
মহলের সর্বোচ্চ সন্মান পেয়ে ৫টি নামজে জানায়ায় হাজার
হাজার মানুষের উপস্তিতিতে।
যে শহরে এডভোকেট মতিন খসরু বেড়ে উঠেছেন শিক্ষা জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন পেশা জীবনের শুরু করেছেন যার জন্য ৫টি নামাজে জানাযার আয়োজন করা হলেও শহর কুমিল্লাবাসী কি এর একটি নামাজে জানাযার আয়োজন করতে পারলেন না ! এটা জেলাবাসী হিসেবে সকলের জন্য লজ্জার এর কোন উওর আমার জানা নেই
যদি এ আয়োজনটা থাকতো এটা হতো আমাদের সকলের জন্য তার জন্য সন্মানের হতো। যদিও খসরু ভাই সর্বোচ্চ সন্মান
নিয়ে পর পারের নাগরিক হয়ে গেছেন। আমাদের সেই হাসি মাখা মুখটি আর দেখাতে আসবেন না কোন কালে
প্রিয় খসরু ভাই পর পারে আপনি ভাল থাকুন।
(নজরুল ইসলাম বাবুল :কুমিল্লা প্রেস ক্লাব এর সাবেক সাধারন সম্পাদক )