Published : Tuesday, 14 December, 2021 at 12:00 AM, Update: 14.12.2021 12:14:43 AM
তানভীর দিপু:
কুমিল্লা
সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল এবং তাঁর
সহযোগী আওয়ামী লীগ কর্মী হরিপদ সাহা হত্যা মামলার দুই আসামি জেল সোহেল ও
সায়মন আদালতের কাছে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা
আদালতের কাছে এই খুনের ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সাথে নিজেদের জড়িত
থাকার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত
কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক মঞ্জুর কাদের
ভুঁইয়া। রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ওই দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দি নেওয়া হয়। কুমিল্লার জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের
বিচারক চন্দন কান্তি নাথের আদালতে ওই দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দি দেয়। পরে তাদেরকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত
কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে
জেল সোহেল ও সায়মনকে হাজির করা হয়। ওই দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪
ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। তাঁরা হলেন-
হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রাম সোহেল ওরফে
জেল সোহেল এবং একই এলাকার প্রয়াত সামছুল হকের ছেলে মো. সায়মন । মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভুঁইয়া জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে
আসামিদের আদালত হাজির করা হলে তারা কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহাকে গুলি
করে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাদের সম্পৃক্ততার স্বীকার করে আদালতে
স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। জবানবন্দি রেকর্ড
শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
তিনি আরো জানান, জেল
সোহেল গুলি করে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
সায়মনের কাজ ছিলো পুলিশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্যদের সহায়তা করা।
সায়মনে কাজ ছিলো পাহারা দেয়া।
নতুন কারো নাম এসেছে কি না এমন প্রশ্নের
জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা সম্ভব
নয়। তবে এই সব কিছুর মূলে ছিলো শাহ আলম। আধিপত্য বিস্তার ও ব্যাক্তিগত
শত্রুতার জেরই এই ঘটনার মূল কারণ বলে এখনো পর্যন্ত জানা গেছে।
মামলা
সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ নভেম্বর বিকেলে কুমিল্লা নগরের পাথুরিয়াপাড়া
থ্রিস্টার এন্টারপ্রাইজ এ নিজ কার্যালয়ে কাউন্সিলর সৈয়দ মোঃ সোহেল ও আওয়ামী
লীগ কর্মী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ২৩ নভেম্বর
রাতে নিহত সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মোঃ রুমন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ
অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ পর্যন্ত
মামলার এজাহারভুক্ত ১১ আসামির মধ্যে প্রধান আসামিসহ ৩ জন পুলিশের সঙ্গে
‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন এবং সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া
এজাহারনামীয় সাত আসামির মধ্যে ছয়জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।
এর মধ্যে মামলার ২ নম্বর আসামি সোহেল ওরফে জেল সোহেল ও ১০ নম্বর আসামি
সায়মনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
রিশাত-নাজিম গ্রেপ্তার:
কুমিল্লায়
কাউন্সিলর সৈয়দ মোঃ সোহেল ও আওয়ামী লীগ কর্মী হরিপদ সাহা হত্যা মামলায় আরো
দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে এন্টিটেরোরিজম ইউনিট ও
সিটিটিসির সহযোগিতায় রিশাত ও নাজিম উদ্দিন ওরফে নাদিম নামে দুই জনকে
গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। রিশাত ও নাজিম উদ্দিন জোড়া খুনের ঘটনায়
অস্ত্র যোগান এবং কিলিং স্কোয়াডে ছিলো বলে নিশ্চিত করেন কুমিল্লা সদর
সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহান সরকার। মামলার এজাহারে তাদের নাম না
থাকলেও তদন্তে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর
আগে সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজে পুলিশ শনাক্ত করে, হত্যা মামলার প্রধান
আসামি শাহ আলমের সাথে নাজিম নামে এক যুবক সুজানগর পাথুরিয়া পাড়া সড়কে গুলি
করতে করতে এগিয়ে আসছে।
গ্রেপ্তারকৃত রিশাত কিলিং স্কোয়াডের সদস্য এবং অস্ত্রের অন্যতম যোগানদাতা।
এ পর্যন্ত এ মামলায় মোট ৯ জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছে। এছাড়া পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে প্রধান আসামি শাহ আলমহ ৩ জন নিহত হয়েছে।